মঠবাড়িয়ায় সাংবাদিক কন্যা হত্যা মামলার স্বাক্ষীর বাড়িতে বিস্ফোরক নিক্ষেপ - মঠবাড়িয়ার বার্তা

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, March 30, 2020

মঠবাড়িয়ায় সাংবাদিক কন্যা হত্যা মামলার স্বাক্ষীর বাড়িতে বিস্ফোরক নিক্ষেপ




বার্তা রিপোর্ট : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সর্বালোচিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য সাংবাদিক কন্যা শিশু ঊর্মি (১০) হত্যা মামলার স্বাক্ষীর বাড়িতে রোববার রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বিস্ফোরক দ্রব্য নিক্ষেপ করেছে ঘটনায় ভূক্তভোগী ওই ঊমি হত্যা মামলার স্বাক্ষী মো. সৈয়দ বেপারী (৫৯) সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে মঠবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়রী (নং-১৪০২) করেছেন সৈয়দ বেপারী উপজেলা উত্তর বড়মাছুয়া গ্রামের মৃত. তাজেম বেপারীর ছেলে

জিডি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে সৈয়দ বেপারীসহ তার পরিবারের সদস্যরা এবং একই উঠানে তার বড় ভাই মতি বেপারীর পরিবারের সদস্যরা খাবার খেয়ে অনেকেই শুয়ে পরেছেন এবং কিছু লোক বিভিন্ন আলাপ চারিতায় ব্যস্ত রাত ১০ টার খানিক পরে হঠাৎ বিকট শব্দে ওই সকল পরিবারের সদস্যরা সহ আশপাশের লোকজন কেঁপে ওঠে এসময় সকেলেই আতংঙ্কিত হয়ে উঠনে নেমে দেখতে পান কালো ধুমায় অন্ধকারচ্ছন্ন এসময় আশপাশের লোকজনও ছুটে আসে পোড়া বারুদের গন্ধে সকলের দম আটকে যাচ্ছিল ঘটনাটি থানায় জানানো হলে ওই রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা যান

সৈয়দ বেপারী জিডিতে আরও উল্লেখ করেন ঊর্মি হত্যা মামলার সে স্বাক্ষী হওয়ায় খুনি ছগির হয়তো ককটেল, হাতবোমা বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিক্ষেপ করেছে ঊমি হত্যা মামলায় পুলিশের কাছে স্বাক্ষী দেয়ায় হত্যা মামলার একমাত্র আসামী ছগির আকন তাঁকে (সৈয়দ বেপারী) তার পরিবারের সদস্যদের খুন-জখম করাসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে তিনি আরও বলেন, ছগির  আমাদের স্ব-পরিবারে পুড়িয়ে হত্যা করার চেষ্টা করছে ছগির আকন সৈয়দ বেপারীর প্রতিবেশী মৃত. কুদ্দস আকনের ছেলে

উল্লেখ্য- গত ২০১৭ সালের ২১ জুলাই শুক্রবার বিকেলে ঊর্মি বান্ধবীর বাড়ি যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় নিখোঁজের দুই দিন পর ২৩ জুলাই বাড়ির অদুরে একটি পরিত্যাক্ত বাগানের নালায় ঊর্মির ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ নিহত ঊর্মির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় ঘটনায় ২৩ জুলাই রাতে নিহত ঊর্মির পিতা সাংবাদিক জুলফিকার আমীন সোহেল অজ্ঞাত আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর-২৫৫/১৭) করেন হত্যার ঘটনায় পুলিশ বখাটে ছগির আকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন প্রায় ১১ মাস অধিকতর তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় একমাত্র ছগির আকনের (৪০) বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) মাজহারুল আমিন (বিপিএম) আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন

ছগির উচ্চ আদালতের জামিনে এসে মামলার বাদী জুলফিকার আমীন সোহেলকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে স্বাক্ষীদেরকেও খুন-জখম করাসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে এতে মামলার বাদী সাংবাদিক জুলফিকার আমীন সোহেল জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মঠবাড়িয়া থানায় একাধিক জিডিও করেছেন সোহেল উপজেলা ওই উত্তর বড়মাছুয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত. মো. রুহুল আমীন আকনের ছেলে সে দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার  মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন নিহত ঊর্মি ওই সময় স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে লেখাপড়া করতো

ঊর্মির খুনির দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে মঠবাড়িয়ার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন বিভিন্ন সামাজিক একধিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এমনকি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মাসুদুজ্জামান জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে




No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here