ছেলেকে অ্যাডভোকেটের পোশাকে দেখে যেতে পারলেন না মা - মঠবাড়িয়ার বার্তা

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, June 30, 2020

ছেলেকে অ্যাডভোকেটের পোশাকে দেখে যেতে পারলেন না মা


ফারজানা আক্তার নিপা,(পিরোজপুর):পূত্রকে আইনের পোশাকে দেখে যেতে পারলেন না এক মমতাময়ী মাতা। বুকভরা স্বপ্ন এবং অনেক আশা নিয়ে  পিরোজপুর সদর উপজেলার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পারূল বেগম কনিষ্ঠ  ছেলেকে অ্যাডভোকেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ২০১০ সালে পূত্র রুবেলকে অতীশ দিপংকর বিশ্ববিদ্যালয়ে এল এল.বি অনার্সে ভর্তি করেন। রুবেল সে পথেই হাটছিলেন। ২০১৫ সালে এল এল. বি( সন্মান) সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করার পর ২০১৭ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ লাভ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ প্রিলি(এম সি কিউ) পরীক্ষায় রুবেল  উত্তীর্ন হওয়ার পর সেই স্বপ্ন আস্তে আস্তে উকি মারা শুরু করে এবং রুবেলের পরিবার আশার আলো দেখতে শুরু করে কিন্তু বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় রুবেল সহ প্রায় সারে তিন হাজার পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। রুবেল সহ অনেকেই ভাল পরীক্ষা দেয়ার পরও অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে রিভিউ এর জন্য আবেদন করে। কিন্তু বার কাউন্সিল রিভিউ আবেদন অগ্রাহ্য করায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নামে। আন্দোলনের এক পর্যায় বার কাউন্সিল তাদের ২০১৮ সালে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপরে আশ্বস্ত করলে তারা মেনে নেয়। কিন্তু ২০২০ সালে এসেও লিখিত পরীক্ষা নেয়নি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল তবে এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী একটি প্রিলি পরীক্ষা নেয় । ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী হানা দেয় মহামারী করোনা। এ অবস্থায়  লিখিত পরীক্ষা কবে নাগাদ হবে বলতে পারছে না কেউ। বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই লিখিত পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে। এমন অনিশ্চিতার মধ্যে গতকাল ২৮ জুন মারা যায় রুবেলের মা। শুধু রুবেলের পরিবার নয় এমন চিত্র ২০১৭ ও ২০২০ সালে এম সি কিউ পাশ করা ১২৮৭৮ জন শিক্ষার্থীর পরিবারের। সন্তান উচ্চ শিক্ষিত হয়েও একটি জটিল পরীক্ষা পদ্ধতির কারনে বছরের পর বছর বেকারত্বের বোঝা বহন করে আসছে পরিবারগুলো। স্বপ্ন পূরন যেন তাদের অধরাই থেকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত পরীক্ষা মওকুপ করে গেজেট করে সনদের দাবীতে শিক্ষানবিশরা স্মারকলিপি প্রদান করে ৯ জুন। ৩০ জুন প্রত্যেক জেলার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচীর ডাক দেন শিক্ষানবিশরা।
ঢাকা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী রবিউল হাসান রবি বলেন, সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একটি জটিল পরীক্ষা পদ্ধতির কারনে একদিকে আমরা বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে পিতা মাতা সহ রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে অসম্মানের জীবনযাপন করিতেছি অন্যদিকে
রাষ্ট্রের বেকারত্বের তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ। অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস বিভিন্ন জটিলতার কারনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা  ৩/৪ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমাদের জীবনের অনেক মূল্যবান সময় আইন পেশায় তালিকা ভূক্তির পূর্বেই হরিয়ে যাচ্ছে । বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারনে সকল জনসমাগম অসম্ভব এবং এর সময়কাল আমাদের সকলেরই অজানা। সকল পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় জড়ো হলে তাদের থাকার জন্য কোন প্রকার বাসা ভাড়া পাওয়া যাবে না এবং এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
এমতপরিস্থিতিতে আমরা যাহারা কঠোর অধ্যাবসয়ের মাধ্যমে কেউ ২০১৭ সালে আবার কেউ বা ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এম সি কিউ পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাশ করেছি তাদের পরবর্তী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা মহামারির কারনে মওকুফ করে গেজেট করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভূক্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পিরোজপুর বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোঃ ইমাম হোসেন বলেন, যেহেতু মজলুমেরর পক্ষে কাজ করে ইতোমধ্যে বিশ্ব দরবারে মানবতার মা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কে জাতীয়করণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছিলেন।  ২০১৭ সালে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছিলেন,
বর্তমানেও করোনা মহামারীর কারণে ডাক্তার ও নার্স স্পেশাল ভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।
এরূপ অসংখ্য নজীর স্থাপন করে তামাম বাঙ্গালীর হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। উন্নত রাষ্ট্র সহ তামাম দুনিয়ার রাষ্ট্রনায়করা আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরন করছে। আমার বিশ্বাস তিনি আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
ঢাকা জজ কোর্ট বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী বোনা আসাদ বলেন,'২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এম সি কিউ পরীক্ষার পূর্বে বার কাউন্সিল বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন কারণ আপীল বিভাগের রায়ের ৭ নাম্বার নির্দেশনা না মেনে ভুক্তভোগী  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের বেশি ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু একই মামলার  আপীল বিভাগের রায়ের  ১২ নাম্বার নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা আছে,'প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রসেস শেষ করা।' আপীল বিভাগের এই রায় দেয়া হয় ২০১৭ সালে। এরপর ২০১৮ এবং ২০১৯ বার কাউন্সিল কোন এনরোলমেন্ট পরীক্ষাই নিতে পারেনি এমতাবস্থায়, শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সম্পূর্ণভাবে উচ্চ শিক্ষিত বেকার এবং আইনের সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এম সি কিউ অনুষ্ঠিত হল ৩ বছর পর।বৈশ্বিক মহামারীর কারণে রিটেন পরীক্ষা এখন  সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের অভিভাবক বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং পুরো দেশের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয়ে অনুরোধ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনের ছাত্র ছিলেন।২০২০ সাল তার শতবর্ষ পূর্তি হল। তার শতবর্ষে এই মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২০ সালের ভিতর এনরোলমেন্ট প্রসেস সম্পূর্ণ শেষ করে সনদ দিলে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা দীর্ঘ এই  বেকারত্বের জট থেকে মুক্তি পায়

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here